টিকা দেওয়ার পরও থামছে না হাম, গবেষণার দাবি বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশিত: August 18, 2026

  • শেয়ার করুন
 টিকা দেওয়া হয়েছে লাখ লাখ শিশুকে। হাম ঠেকাতে হয়েছে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিও।

তবু থামছে না সংক্রমণ। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে নতুন রোগী।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, টিকা নেওয়া শিশুরাও আছেন এ তালিকায়। ফলে চট্টগ্রামে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
 

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বলছে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯১ জন হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এর মধ্যে মহানগরেই ২৮৭ জন। বিভিন্ন উপজেলায় ভর্তি রয়েছেন আরও চারজন। এ পর্যন্ত মোট ৭১৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও চট্টগ্রাম নগরের নয়টি ওয়ার্ডকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। হাম নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ লাখ ৮১ হাজার ৬৫০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। জেলার ১৫ উপজেলায়ও টিকা পেয়েছে আরও ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫৯ শিশু। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও হাম কমছে না কেন?

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, টিকা দেওয়ার পর আক্রান্তের হার কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুর পাশাপাশি ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভাইরাসের জিনগত কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকলে প্রচলিত টিকার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্রুত জিনোম স্ট্যাডি বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন।

হাসপাতারে রোগী না কমেলেও টিকা কর্মসূচির পর তীব্রতা কমেছে বলে জানান আরে চমেক হাসপাতালের হাম ফোকাল পার্সন,ডা. ফারহানা জেরিন। তিনি বাংলানিউজকে জানান, আক্রান্তের হার না কমলেও টিকার কারণে রোগের তীব্রতা এবং আইসিইউতে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় কমেছে। বর্তমানে হাসপাতালে আসা হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই নিউমোনিয়ায় ভুগছে। এর পাশাপাশি এনসেফালাইটিস ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে। অর্থাৎ টিকা সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও রোগের ভয়াবহতা কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তিনি।
এদিকে ২০২৫ সালের ‘চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজ জার্নাল’ এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব এবং মায়েদের শিক্ষার নিম্ন হার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

টিকার আওতায় আসার পরও কেন এত শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এ কারণ উদঘাটনে দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের টিকার ইতিহাস বিশ্লেষণ এবং ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা জরুরি। গবেষণায় নতুন কোনো ভাইরাসের ধরন বা জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে টিকাদান কৌশলও পুনর্মূল্যায়ন করতে হতে পারে।

  • শেয়ার করুন