খুলনার সন্ত্রাসীদের বিচিত্র নাম আর বিচিত্র সব অপরাধ

প্রকাশিত: September 29, 2026

  • শেয়ার করুন

খুলনার সন্ত্রাসীদের কারও নাম ‘গ্রেনেড বাবু’, কারও ‘ট্যাংকি শাওন’। কেউ ‘চিংড়ি পলাশ’, কেউ ‘বেজি আলামিন’, আবার কারও পরিচয় ‘গলাকাটা রাজু’। মূল নাম ছাপিয়ে এসব ডাকনামই যেন তাদের পরিচয়ের বড় অংশ। মহল্লা থেকে অপরাধের আড্ডা, পুলিশের নথি থেকে মামলার কাগজ— সবখানেই আসল নামের চেয়ে এসব নামই বেশি উচ্চারিত হয়।

এসব নামের পেছনেও রয়েছে আলাদা গল্প। কোনোটি হত্যাকাণ্ডের ধরন থেকে, কোনোটি চাঁদাবাজির অভিযোগে, আবার কোনোটি এসেছে শৈশবের ডাকনাম থেকে।

খুলনা মহানগর ও আশপাশে তালিকাভুক্ত ১৮১ সন্ত্রাসীর তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। পুলিশের প্রতিবেদনে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বি-কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, ট্যাংকি শাওন গ্রুপসহ কয়েকটি গ্রুপের নাম এসেছে।

ট্যাংকি শাওন: শেখ সাইদুর রহমান শাওন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে পূজাখোলায় এক যুবককে হত্যার পর লাশ সেপটিক ট্যাংকে ঢুকিয়ে রাখার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। এরপরই যুক্ত হয় ‘ট্যাংকি’ নামটি। বর্তমানে তিনি কারাগারে।

গ্রেনেড বাবু: রনি চৌধুরী ওরফে বাবু। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালে খুলনা সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমানের গাড়িতে গ্রেনেড হামলার পর তার নামের সঙ্গে ‘গ্রেনেড’ যুক্ত হয়। তার সঙ্গে যুক্ত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে যে নেটওয়ার্কের কথা বলা হয়, সেটির নাম ‘বি-কোম্পানি’।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দাউদ ইব্রাহিমের ‘ডি-কোম্পানি’র আদলে নামটি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে তার বাড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযান চালানোর খবর প্রকাশিত হয়।

চিংড়ি পলাশ: পলাশ তালুকদার। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা ও আশপাশের চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। ঘেরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিচিতি পেয়েছেন ‘চিংড়ি পলাশ’ নামে।

 

বেজি আলামিন: দিঘলিয়ার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আলামিন। ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, একটি দস্যুতা ও একটি সাধারণ মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দিঘলিয়া থানার ওসি সানোয়ার হুসাইন মাসুম। তার ভাষ্য, ছোটবেলায় দুষ্টুমি ও ধূর্ততার কারণে বন্ধুরা আলামিনকে ‘বেজি’ নামে ডাকত।

গলাকাটা রাজু: রাজু মুন্সি। ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি আমতলা মোড়ের কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। ডাকাতির সময় চিত্তরঞ্জনকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা হয়। ওই ঘটনাতেই রাজুর সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘গলাকাটা’ নামটি।

এ ছাড়া খুঁড়িয়ে হাঁটেন বলে ‘ঠুণ্ডা শামীম’, গায়ের রং কালো বলে ‘কালা রাজু’, ব্ল্যাকে মালামাল বেচাকেনা করতেন বলে ‘ব্ল্যাক রাজু’, ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় ‘ঢাকাইয়্যা শামীম’, পালসার গাড়ি চুরি করতেন বলে ‘পালসার সোহেল’, ব্লেড দিয়ে ছিনতাই করতেন বলে ‘ব্লেড বাবু’ এবং ‘কাউয়া মিরাজ’ নামেও পরিচিত রয়েছেন অনেকে।

 

কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এম শাকিলুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধরনের সঙ্গে বিশেষণ যুক্ত হয়ে এসব নামের সৃষ্টি হয়েছে। পরে মানুষ এসব নামেই ডাকতে শুরু করে। অনেক সময় নিজেরাও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এসব নাম যুক্ত করে নেয়।

  • শেয়ার করুন