স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু, পাশাপাশি চিতায় দাহ

প্রকাশিত: September 29, 2026

  • শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা গেছেন নিত্য বালা বর্মন (৭০) নামে এক বৃদ্ধা। পরে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে।

নিহত নিত্য বালা বর্মনের স্বামী হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। স্ত্রী নিত্য বালাও নিয়মিত তাঁর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মন। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তাঁর মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করেন নিত্য বালা। বাড়িতে তখন স্বজনদের ভিড় ছিল। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে সকালে বাড়ির পাশের রেললাইনে নিত্য বালার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

পরে স্বজনেরা রেললাইন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিবারের ফসলি জমির পাশে তৈরি করা শ্মশানে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

নিত্য বালা ও হরেন্দ্রনাথ দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমার বাবা অনেকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। মা বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার পর তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আত্মীয়রা রেললাইনে মায়ের মরদেহ দেখতে পান। আমরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি। আজ বাবা-মায়ের একসঙ্গে সৎকার করা হয়েছে। সবাই তাঁদের জন্য আশীর্বাদ করবেন।”

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, “ঘটনার পর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে সৎকার করেছেন বলে আমরা পরে জানতে পেরেছি। যেহেতু রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা, তাই রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

  • শেয়ার করুন