প্রকাশিত: March 26, 2026
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত সংকটে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসার সময় জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই নিরাপদে পার হতে পারে, সেজন্য ইরানের কাছে কূটনৈতিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এরই প্রেক্ষিতে তেহরান বাংলাদেশের কেনা জ্বালানি চালানের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তেহরানের চিঠি পাওয়ার একদিনের মাথায় বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা থেকে পাঠানো ওই তালিকায় বাংলাদেশগামী ছয়টি জাহাজের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এই বহরে প্রায় ৫ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং প্রায় ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
ইরানকে দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি লোডিংয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ, কার্গো ধারণক্ষমতা, লোডিং বন্দর বা উৎস এবং জাহাজের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) শনাক্তকরণ নম্বর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছয়টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটি এলএনজি নিয়ে কাতার থেকে এবং অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে এই পথটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এখানে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন উদ্বেগ থেকেই তেহরানের সাথে এই সমন্বয় করছে ঢাকা।