শক্তিশালী জনসম্পৃক্ততা বাংলাদেশ-আসিয়ান বন্ধনকে গভীর করেছে-প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশিত: August 11, 2026

  • শেয়ার করুন

প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, শক্তিশালী জনসম্পৃক্ততা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই পক্ষের বন্ধনকে আরও গভীর করেছে। পারস্পরিক কল্যাণ ও অভিন্ন স্বার্থে এ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে আসিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত আসিয়ান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত আসিয়ান ঢাকা কমিটি (এডিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ সম্পর্ক স্থল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও দুই পক্ষের বন্ধনকে গভীর করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব সংযোগ ভবিষ্যতে পারস্পরিক কল্যাণের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমিন উর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আসিয়ানের ১১টি সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এ সফর বাংলাদেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও আসিয়ানের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করতে বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার (এসডিপি) হওয়ার জন্য আবেদন করেছে বলেও জানান মন্ত্রী। আসিয়ানের সঙ্গে খাতভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটের বাংলাদেশ-আসিয়ান কো-অপারেশন প্রজেক্ট অন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে আরও কয়েকটি সহযোগিতা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ যেন আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আসিয়ান মিশনপ্রধানদের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আসিয়ান বিশ্বের অন্যতম সফল আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ান পরিবারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারলে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও অর্থবহ ও বহুমাত্রিক হবে।

অনুষ্ঠানে আসিয়ান ঢাকা কমিটির চেয়ার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেটসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্য ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট এবং দেশীয় ঐতিহ্যের জনপ্রিয় খাবার কালোজিরা চালের বিরিয়ানি পরিবেশন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ কৃষি, প্রাণিসম্পদ, খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

  • শেয়ার করুন