বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশে সোনার দামের পার্থক্য কত?

প্রকাশিত: August 11, 2026

  • শেয়ার করুন

বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনার দাম। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। এদিন সোনার দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা, সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশে নতুন দাম

দেশের বাজারেও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে—

  • ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা
  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৪ ডলারে উঠেছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার দিকে দামটি দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯২ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সোনা মজুত করার প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বৃদ্ধিই দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

আন্তর্জাতিক দরে বাংলাদেশে এক ভরি সোনার মূল্য কত?

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম হিসাব করা হয় ট্রয় আউন্সে। এক ট্রয় আউন্সে রয়েছে ৩১ দশমিক ১০ গ্রাম সোনা। অন্যদিকে বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ভরিতে। এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।

মঙ্গলবারের আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি ট্রয় আউন্স সোনা ৪ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৪ ডলার হলে এক ভরি খাঁটি সোনার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৬৬২ ডলার

ডলারের দাম আনুমানিক ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারদরে এক ভরি খাঁটি সোনার মূল্য প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ৮২৩ টাকা

অন্যদিকে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি গহনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের কাঁচা সোনার মূল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ২২ ক্যারেট গহনার দামের ব্যবধান প্রায় ৩২ হাজার টাকা

কেন এত পার্থক্য?

আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট গোল্ডের দাম এবং বাংলাদেশের দোকানে বিক্রি হওয়া গহনার দাম এক নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশিত দাম মূলত নির্দিষ্ট মানের কাঁচা বা স্পট সোনার বাজারমূল্য।

অন্যদিকে বাংলাদেশে গহনার দামের সঙ্গে আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যয়, গহনা তৈরির মজুরি, করসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সোনার দামের সঙ্গে বাংলাদেশের খুচরা গহনার দাম সরাসরি তুলনা করা যায় না।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়া-কমার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ে।

বেড়েছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

সোনার পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে।

স্পট রুপার দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৩০ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৬৫ দশমিক ২৬ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও সোনার দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

  • শেয়ার করুন