সরকারি কর্মকর্তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করলেন সাবেক এমপি

প্রকাশিত: August 11, 2026

  • শেয়ার করুন

থাইল্যান্ডে প্রকাশ্য দিবালোকে স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেশটির সাবেক এক সংসদ সদস্যের (এমপি) বিরুদ্ধে। আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানী ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই সাবেক এমপি চালং রিউরাংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশি পাহারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নিজের অপরাধ স্বীকার করে চালং দাবি করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কর্মকর্তা থংচাই ইয়েনপ্রাসের্টের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

চালংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি থংচাইয়ের গাড়ির কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি নিজের কাছে থাকা পিস্তল বের করেন। তার দাবি, গুলি করার পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। তবে থংচাইয়ের গাড়িচালক অস্ত্র তাক করায় তিনি গুলি চালাতে বাধ্য হন।

এ ঘটনায় ননথাবুরি স্থানীয় সরকার প্রশাসনের চেয়ারম্যান থংচাই গুরুতর আহত হন। তাকে ফরা নাং ক্লাও হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক সাকন সুকপ্রম জানান, গুলি থংচাইয়ের ঘাড়ে লাগে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার গাড়িচালকও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে অস্ত্রোপচার করে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে পুলিশের তদন্তে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ওয়াতানা ইয়েচিন জানান, সাবেক এমপি নিজেকে একমাত্র হামলাকারী দাবি করলেও তদন্তে দেখা গেছে, উভয় পক্ষের কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

পুলিশ থংচাইয়ের গাড়ির ভেতর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে। তবে ওই অস্ত্র থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে চালংকে খুব কাছ থেকে একাধিকবার গুলি করতে দেখা গেছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াতানা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মিলিয়ন বাথের আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। চালংয়ের দাবি, নিহত কর্মকর্তা কয়েক বছর আগে তার কাছ থেকে ওই অর্থ ধার নিয়েছিলেন। একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলেও তা পাননি তিনি।

ননথাবুরির গভর্নর চেস্তা মসিকারাত জানান, অভিযুক্ত ও নিহত কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন। একটি গুরুতর ভুল বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে, কয়েক দিন আগেই একই ননথাবুরি অঞ্চলে আরেকটি ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটে। ৭ আগস্ট ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যার পর একটি স্কুলে গিয়ে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় আরও ছয়জন নিহত হন এবং পরে ওই কিশোর আত্মহত্যা করে বলে জানা গেছে।

পরপর এসব সহিংস ঘটনার পর থাইল্যান্ড সরকার দেশটির আগ্নেয়াস্ত্র আইন আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দেশটির বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হলেও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

থাইল্যান্ডে বৈধ ও অবৈধ বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত বিরোধে অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে।

  • শেয়ার করুন