প্রকাশিত: August 16, 2026
অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সারা দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬৪ জেলা, সব মহানগর ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ককে এ নজরদারির আওতায় আনা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ জন্য প্রায় ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগামী দুই বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত সিসি ক্যামেরার মতো শুধু দৃশ্য ধারণ নয়, এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। দ্রুতগতির যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে জাতীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকবে এসব ক্যামেরার।
জনবহুল এলাকায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের মুখ স্ক্যান করে ডেটাবেজে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পরোয়ানাভুক্ত অপরাধী বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ব্যবস্থাও থাকবে। অপহৃত ব্যক্তি বা নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করতেও ব্যবহার করা হবে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি।
এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনও শনাক্ত করা হবে। সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, হেলমেট না পরা, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম কিংবা ট্রাফিক লাইন অতিক্রমের মতো অপরাধ শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-মামলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে এ ব্যবস্থার সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএর সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান জানান, রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে বর্তমানে ৩৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকার দুই শতাধিক পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, এসব ক্যামেরা স্থাপনের পর আইন ভাঙার প্রবণতা কমেছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও অপরাধী শনাক্ত করতেও ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ডেটাবেজের সঙ্গে এআই ক্যামেরা নেটওয়ার্ক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৯৯৯-এ কোনো অভিযোগ এলে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ক্যামেরার লাইভ দৃশ্য নিয়ন্ত্রণকক্ষে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কোনো অপরাধী গাড়িতে পালিয়ে গেলে নম্বর প্লেট শনাক্ত করে পরবর্তী এলাকায় তার গতিবিধি অনুসরণ করাও সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোও এই নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করা হবে। মামলার তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে গাড়ির মালিককে জানানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এআই ক্যামেরা নেটওয়ার্কে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তথ্য সুরক্ষায় ফায়ারওয়াল ও এনক্রিপশন ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তি পরিচালনা ও তথ্য বিশ্লেষণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।