প্রকাশিত: August 27, 2026
বুধবার সকালে ভোটে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায়। নেপালের সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, রাসুয়ায় ৩৯৩ জন বিদেশি পর্যটকসহ প্রয় ৬০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন।নিখোঁজ পর্যটকের একটি অংশ তীর্থযাত্রী ছিলেন। কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন তারা।
আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, তুষারধসের কারণেই বুধবার নেপালের ভোটেকোশি নদীতে হড়পা বান নেমেছিল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর ভূ-বিজ্ঞানীদের একাংশ জানিয়েছেন, তুষারধসের জেরে পাথর ও বরফের স্তূপে অবরুদ্ধ হয়েছিল নদীর গতিপথ। ফলে জমতে থাকা পানির চাপে হঠাৎই সেই ‘অবরোধ’ ভেঙে যায়, সৃষ্টি হয় এই বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি নদীর নাম লেহন্দে। এটি হিমালয় অঞ্চলের ভোটে কোশি নদীর প্রধান শাখানদীও। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত মিলেছে যে, একটি তুষারধস লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি, হিমবাহের বরফগলা পানিতে ভরা কোনও হ্রদও ফেটে গিয়েছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার নেপালের পার্লামেন্টে দেশটির বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল জানান, সকাল ৮:৩৭ নাগাদ একটি ভূমিকম্প হয়। এর পর একটি তুষারধস ঘটে। তিনি বলেন, “সরকারের হাতে থাকা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোটেকোশিতে আকস্মিক বন্যা ৮:৪০ নাগাদ শুরু হয়। বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের কাজ এখনও চলছে।”
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়ার পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট এবং ধারিং জেলাও। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের মতে, লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জমা পানির চাপ পাথর ফাটিয়ে ভোটেকোশীতে পড়ে এ বিপর্যয় ঘটিয়েছে।