হাজতখানায় নিজের লুঙ্গি ছিঁড়ে ফাঁস নিতে চান গরু চোর ইকবাল, অতঃপর…

প্রকাশিত: September 1, 2026

  • শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা হাজতখানায় নিজের লুঙ্গি ছিঁড়ে মো. ইকবাল শেখ গারো (৪০) নামে এক আসামি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ সময় আরেক আসামির চিৎকারে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মো. তাকে বাঁচান।

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রমাণ মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজে।

 

আসামি ইকবাল শেখ উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।

এদিকে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় সোমবার দুপুরে তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যা চেষ্টা আইনে মামলা নথিভুক্ত করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।

 

জানা গেছে, গেল ৬ জুন উপজেলার সদকী ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের আলতাফ ফকিরের ছেলে বিপ্লব হোসেনের খামার থেকে থেকে একটি গরু চুরি করেছিলেন মো. ইকবাল শেখ গারো। যার বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই গরু ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে তা দিয়ে মৃত বাবার কুলখানি করে লাপাত্তা হয়েছিলেন তিনি। এরপর সোমবার ভোরে জিলাপীতলা এলাকা থেকে ছয়টি মুরগী চুরি করে পালানের সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পরে পুলিশ তাকে থানার হাজতখানায় পাঠায়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

 

পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামি ইকবাল শেখ বলেন, ৫৫ হাজার টাকায় গরু বিক্রি করে ২৫ হাজার টাকা ভাগে পেয়েছিলাম। তার মধ্যে ১৫ হাজার টাকা বাবার দেনা শোধ দিছিলাম। বাকিটা আমি খেয়েছিলাম।

কেন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে এসেছে। সেজন্য আত্মহত্যা করে মরে যেতে চেয়েছিলাম।

থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন আসামি ঘুমিয়ে রয়েছেন। আর ইকবাল প্রথমে নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়লেন। পরে তা দেওয়ালের গ্রিলে বেঁধে নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েন। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হন। কিছুক্ষণ পর ফের ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করলে ঘুমিয়ে থাকা আসামি জেগে ওঠে চিৎকার দেন এবং বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ছুটে আসেন।

সম্প্রতি গরু চুরির ঘটনাসহ ইকবালের বিরুদ্ধে থানায় কয়েকটি চুরির মামলা রয়েছে বলে জানান থানার ওসি জামাল হোসেন। তিনি বলেন, হাজতখানায় লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ইকবাল নামের আসামি। পরে পুলিশের তৎপরতায় তাকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যা চেষ্টা আইনে পুলিশ মামলা করেছে।

 

  • শেয়ার করুন