প্রকাশিত: September 15, 2026
ইরানের ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক বিমান, ড্রোন ও ঘাঁটি ধ্বংস কিংবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) পর্যবেক্ষণ সংস্থার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির প্রথম আনুষ্ঠানিক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে স্বীকার করা হয়, যুদ্ধের তীব্রতায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মূল মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে এবং এর সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১১ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইরানের হামলায় আহত হয়েছেন ৪১৭ জন মার্কিন সেনা। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর শত শত ভবন ও অবকাঠামো ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আমেরিকান সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমানের মধ্য থেকে ওয়াশিংটন অন্তত ৩০টি সুনির্দিষ্ট হামলায় সক্ষম এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২৪ কোটি ডলার মূল্যের একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন, ৪টি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, ১টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ স্টিলথ বিমান, ৭টি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ১টি এ-১০ আক্রমণাত্মক বিমান এবং কয়েকটি সামরিক ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস কিংবা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
মহাকাশেও প্রস্তুত যুদ্ধক্ষেত্র, অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
সামরিক ঘাটির পাশাপাশি কূটনৈতিক অবকাঠামোতেও বড় ধরনের আর্থিক আঘাত এসেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন কূটনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে ইরানের হামলায় আনুমানিক ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে। রিয়াদ ও বাগদাদের দূতাবাসসহ বেশ কয়েকটি কনস্যুলেট ভবন সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হয়।