প্রকাশিত: September 29, 2026
ভারতে বিদেশি পর্যটক আগমনের সংখ্যায় বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি বছরের আগস্টে দেশটিতে প্রায় ৭ লাখ বিদেশি পর্যটক গেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আর বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যায় এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ। চীন থেকেও পর্যটক আগমন দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার বিদেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার। আগস্টে বিদেশি পর্যটক বাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ। এই মাসটিতে বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
চীন থেকেও পর্যটক আগমনে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্টে চীন থেকে ভারতে আসা পর্যটকের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রচলিত পর্যটন বাজারগুলো থেকে পর্যটক বাড়ার হার তুলনামূলক কম। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য—দুই দেশ থেকেই পর্যটক আগমন বছরওয়ারি প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
এছাড়া কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকে পর্যটক আগমনে তুলনামূলক ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এসব দেশ থেকে পর্যটক বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে।
এনডিটিভি বলছে, বাংলাদেশ ও চীন থেকে পর্যটক আগমনে এই উল্লম্ফন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশের পর্যটন বাজারই নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল। আগস্টের পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে বিদেশি পর্যটক বাড়ার পেছনে শুধু প্রচলিত বাজারগুলোই ভূমিকা রাখছে না।
পর্যটননীতি নিয়ে কাজ করা থিংকট্যাংক অতিথি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেমন্ত যোশি এনডিটিভিকে বলেন, এই পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও চীনের মতো বাজার ঘুরে দাঁড়ানোয় ভারতের বিদেশি পর্যটনের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
তবে শুধু এক মাসের তথ্য দেখে বড় কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। যোশি বলেন, ‘এক মাসের তথ্য দেখে এটিকে কাঠামোগত পরিবর্তন বলা উচিত হবে না’। তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমভিত্তিক হওয়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক আসার ধরনেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
তার মতে, পর্যটক বাড়ার একটি অংশ সময়ের পার্থক্য এবং গত বছরের তুলনামূলক কম সংখ্যার কারণেও হতে পারে। কয়েক মাসের ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করলেই পরিস্থিতির পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।
যোশি বলেন, বিদেশি পর্যটনের গুরুত্ব বোঝার জন্য শুধু কতজন পর্যটক এসেছেন, তা হিসাব করলেই হবে না। তারা কতদিন থাকছেন, কত টাকা খরচ করছেন এবং দেশের কোন কোন এলাকায় সেই অর্থ ব্যয় করছেন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধি যদি দীর্ঘমেয়াদি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত ভ্রমণে রূপ নেয়, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যোশি বলেন, ‘বড় সুযোগটি হলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাড়তে থাকা আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি ও একাধিক গন্তব্যভিত্তিক ভ্রমণে পরিণত করা। এতে ভারতের প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বাইরেও পর্যটন থেকে আয় আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।’
এর অর্থ হলো, বিদেশি পর্যটকদের পরিচিত গন্তব্যগুলোর বাইরে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ভ্রমণে উৎসাহিত করা এবং তাদের আরও বেশি সময় ভারতে কাটানোর সুযোগ তৈরি করা।