বাংলাদেশসহ ২০ দেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশিত: September 29, 2026

  • শেয়ার করুন

লাদেশসহ বিশ্বের ২০ দেশ থেকে আমদানি করা বিশেষ ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য শুল্ক সুবিধার জন্য ২০টি দেশ ও অঞ্চলকে তালিকাভুক্ত করে।

শূন্য শুল্কের আওতায় পড়বে বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত ওষুধ। এর মধ্যে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তরস থেকে তৈরি চিকিৎসা, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট রয়েছে।

এ ছাড়া রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু পণ্যও এই ছাড়ের আওতায় থাকবে। এসব পণ্যের উৎপাদনে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট উপাদানও ছাড় পেতে পারে। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের।

তবে এই শূন্য শুল্ক সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, কোনো পণ্য এমন দেশ বা অঞ্চল থেকে এলে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর বা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাওয়া বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি রয়েছে, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণে পণ্যটি প্রয়োজনীয় হলে শূন্য শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, ভারত, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনামও এই তালিকায় রয়েছে।

ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শূন্য শুল্কের শ্রেণির বাইরে থাকা পেটেন্টযুক্ত ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে, যদি সেগুলো অন্য কোনো শুল্ক সুবিধা বা ছাড়ের যোগ্য না হয়।

অন্যদিকে জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জেনেরিক ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ২৩২-এর এই ওষুধ শুল্কের আওতায় পড়ছে না।

এই শুল্কব্যবস্থা মূলত নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন স্থানান্তরের অনুমোদিত ব্যবস্থা করেছে, তাদের ক্ষেত্রে এপ্রিলের ঘোষণার অধীনে ভিন্ন শুল্কনীতি প্রযোজ্য হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এপ্রিলে দেশটির অভ্যন্তরে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই শুল্কের ঘোষণা দেন। ঘোষণার আওতাভুক্ত একটি শ্রেণির কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩১ জুলাই থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। আর সেকশন ২৩২-এর আওতাভুক্ত অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে তা কার্যকর হচ্ছে।

  • শেয়ার করুন