পটুয়াখালীতে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, এক দুর্ঘটনায় নিঃস্ব তিথীর পরিবার

প্রকাশিত: September 29, 2026

  • শেয়ার করুন

পটুয়াখালীতে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। একের পর এক দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ, ভেঙে পড়ছে পরিবার। সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিথী রানী ও তার মা শিল্পী রানী। তিথীর মৃত্যুতে মা-হারা হয়েছে তার দুই শিশু সন্তান। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে এখন দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা কাঠমিস্ত্রি রনজিৎ মিস্ত্রি।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের তিথী রানীর বাড়িতে এখন শুধুই শোকের আবহ। যে ঘরে মায়ের সঙ্গে সময় কাটতো চার বছরের অর্পিতা ও দুই বছরের অহনার, সেই ঘরেই এখন মায়ের অপেক্ষায় তারা। কিন্তু আর কোনোদিন ফিরবেন না তাদের মা।

স্বজনরা জানান, তিথী রানী ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় তার মা শিল্পী রানীসহ আরও দুজন প্রাণ হারান।

মায়ের মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়স হয়নি ছোট্ট অর্পিতা ও অহনার। তবুও মায়ের অনুপস্থিতি তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট। এক মুহূর্তে মা ও অনাগত ভাই বা বোনকে হারিয়ে এখন বাবার সঙ্গেই তাদের নতুন জীবন শুরু করতে হচ্ছে।

কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন রনজিৎ মিস্ত্রি। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারানোর শোকের পাশাপাশি এখন দুই ছোট সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্বও তার কাঁধে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বলছেন, একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়নি, পুরো পরিবারটিকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পটুয়াখালীর বিভিন্ন সড়কে নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ সড়কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে সড়কে নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় নয় মাসে জেলায় দেড় শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জন। দুর্ঘটনাগুলোর ঘটনায় মামলা হয়েছে আটটি।

এদিকে দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ।

সড়ক দুর্ঘটনা শুধু জীবন কেড়ে নেয় না, এর সঙ্গে থেমে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তিথী রানীর পরিবারের মতো আর কোনো পরিবার যেন এমন শোকের মুখে না পড়ে—এটাই এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

  • শেয়ার করুন