প্রকাশিত: October 2, 2026
জামায়াত যেহেতু ইসলামি রাজনীতি করে বলে দাবি করছে এবং শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামকে বলব, ইসলামি মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। রাজনৈতিক খবর পড়ুন
শুক্রবার (০২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
Advertisements
Read more
X
রাশেদ খান বলেন, ইসলামি মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, সেটা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে আপনারা শেখেন। আপনারা ইসলাম থেকে, ইসলামী মূল্যবোধ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছেন।
তিনি বলেন, জামায়াতের সব কার্যক্রম ও কথাবার্তা আসলে এক ধরনের ইসলামের সঙ্গেই দ্বিচারিতা। এটি জামায়াতের কাছ থেকে দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, আপনারা যে ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য মাঠে-ময়দানে রাখছেন, এটি নিয়ে জাতি বিভ্রান্ত হচ্ছে। আজকেও আমাদের আমির যে কথা বললেন, এই সরকারকে সবার সহযোগিতা করা উচিত। সহযোগিতা না করে এই সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে কেন লংমার্চ—এই প্রশ্ন তিনি আজ আমাদের কাছে করেছেন। সরকারি আদেশ দেখুন
হেফাজতে ইসলামের আমিরের বরাত দিয়ে রাশেদ খান বলেন, সবার দায়িত্ব, আমরা যারা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদকে হারিয়েছিলাম, সবার দায়িত্ব সেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা। কিন্তু এই মুহূর্তে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামের কোনো মনোযোগ নেই। জামায়াতে ইসলাম কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, মোনাফেকি করে তারা সেই চেষ্টা করছে। আর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের সেই মোনাফেকি আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে, ইসলামের এক ধরনের কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আমি শ্রদ্ধেয় আমির এবং হেফাজতের সব নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, দেখেন, আমি আগেও স্পষ্ট করেছি, জামায়াতের মুখে একটা, অন্তরে আরেকটা। অর্থাৎ জামায়াতের জন্ম থেকে শুরু করে আজ অবধি মোনাফেকি আচরণ ছাড়া অন্য কোনো আচরণ তাদের কাছ থেকে আমরা এখনো পর্যন্ত দেখছি না। জামায়াত মুখে বলছে সরকারকে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে আমরা লক্ষ্য করছি, কীভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে সেই ৯৬-এর মতো আন্দোলন করা যায়, সেই অপচেষ্টা জামায়াত করছে। আর সেই সন্দেহ-সংশয় সবার মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভাষা আর জামায়াতের ভাষার মধ্যে এই মুহূর্তে কোনো পার্থক্য নেই। তারা ডিসেম্বর মাসকে বেছে নিয়েছে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে আমরাও ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকব। আমরা দেখতে চাই, ডিসেম্বরে কারা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে। যারা এই সরকারকে সহযোগিতা না করে সরকার পতনের আন্দোলন করবে, সরকারকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা করবে, তাদের বাংলাদেশের জনগণ রুখে দেবে, ইনশাআল্লাহ। সরকারি সেবা
রাশেদ খান আরও বলেন, আজ জুমার দিনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি এবং তার দোয়া নিয়েছি। তিনি বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করেছেন। তিনি বিএনপি এবং বাংলাদেশের মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন