প্রকাশিত: October 3, 2026
সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামবাহী ৩টি লরি।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য আনা এই জ্বালানি আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গাড়িবহরটি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়ামের চালান নিয়ে গাড়িবহরটি দুপুর সাড়ে ১২টার পর রূপপুরে পৌঁছেছে।
এর আগে শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয় তিনটি লরির বহর। এসব লরিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম বহন করা হয়।
নিরাপত্তাব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পুরো পথে ইউরেনিয়াম পরিবহনে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানিবাহী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি বুঝে নেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের এসব চালান বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাচ্ছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও কয়েকটি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসার কথা রয়েছে।
জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ কারণে বিমানবন্দর থেকে প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং কাজের জন্য দুটি-সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে এই জ্বালানি দেশে আনা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সবকটি চালান সফলভাবে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা।