প্রকাশিত: October 5, 2026
বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের আইনগতভাবে নিশ্চিত অধিকার তৈরি হয় না বলে রায় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের মতে, কোনো বিদেশিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়া রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অমিত মহাজন এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা থাকার পরও ভারতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া তুর্কমেনিস্তানের এক নারীর করা আবেদন খারিজ করে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন।
আদালত বলেন, ভিসা প্রদান, সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি এবং অভিবাসন ছাড়পত্র—এই বিষয়গুলো রাষ্ট্রের সার্বভৌম এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, বৈদেশিক সম্পর্ক ও জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আদালতে ওই নারী জানান, গত ২৫ মার্চ স্বামীর সঙ্গে ভারতে পৌঁছানোর পর তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তাকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। তবে তার স্বামীকে ভারতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নিজের বৈধ ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈধ ভিসা থাকা মানেই ভারতে প্রবেশের নিঃশর্ত অধিকার নয়। ভিসা দেওয়া এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি—দুটি আলাদা বিষয়। ওই নারীর বিষয়ে কিছু বিরূপ তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি তার পূর্ববর্তী ভ্রমণের ইতিহাস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে ভ্রমণ করেছেন। এসব সফরের বেশিরভাগই ছিল এক থেকে তিন দিনের। তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা—দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করে এসব ভ্রমণ করেছিলেন।
মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত আরও দেখতে পান, ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামী সম্পর্কে দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। ভারতে ব্যবসা পরিচালনার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি বা আমন্ত্রণপত্রও তিনি আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি তুর্কমেনিস্তানে তার ব্যবসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এসব বিষয় এবং আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি খারিজ করে দিল্লি হাইকোর্ট বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের সহজাত বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার নেই। বৈধ ভিসা থাকলেও চূড়ান্তভাবে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকে।