প্রকাশিত: October 8, 2026
অতিরিক্ত সুদের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া এফডিআর তৈরি, চেক জালিয়াতি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে ৯১ গ্রাহকের ৮ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মোহাম্মদ সামী ও উপসহকারী পরিচালক মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন, নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহমেদ এবং সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল হাই। তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ৯১ জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব গ্রাহকের মধ্যে কয়েকজনের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, গ্রাহকদের বেশি সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া এফডিআর তৈরি করা হতো। এরপর চেক জালিয়াতি, ভুয়া জমা স্লিপ তৈরি এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অনুসন্ধান এখনও চলমান থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুদকের ধারণা, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আত্মসাতের অর্থের পরিমাণও আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ও আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে এ ঘটনায় দ্রুত মামলা (এফআইআর) দায়ের করা হবে।