প্রকাশিত: October 10, 2026
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় আঘাত হেনেছে অত্যন্ত শক্তিশালী এক ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-র তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূ-কম্পনে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে দেশটির একাধিক শহরের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পানামার দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় ছোট শহর ‘পিতালোজা আররিবা’ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি গভীরতায় ভূমিকম্পটি হওয়ায় এর প্রভাব দেশের দূর-দূরান্তের অঞ্চলে প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়ে। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরের পেনোনোমে শহরের একটি ঐতিহাসিক গির্জার চূড়া ধসে পড়েছে এবং পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনের সামনের অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এছাড়া জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘প্লায়া ভেনাও’-তে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ পানামা খালের ওপর নির্মিত বিশাল ‘সেন্টেনিয়াল সেতু’ ভূ-কম্পনের তীব্রতায় ব্যাপকভাবে দুলে উঠতে দেখা যায়।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানী পানামা সিটির দুটি মেট্রো রেললাইনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং স্টেশনে থাকা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় দিনের বাকি সময়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে পানামার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রানওয়ে ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।
ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এলাকাটিতে ৪০টিরও বেশি আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬। ভূ-কম্পনের তীব্রতার কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য সুনামির জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সমুদ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কোনো বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা না থাকায় সেই সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশের উদ্ধারকারী দলগুলো।