প্রকাশিত: October 24, 2026
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ নামে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। এদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর, শিক্ষককে মারধর ও লুটের অভিযোগ তুলে পৃথক মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষককে গত বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় শিক্ষক মোসলেমকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। তাঁকে থাপ্পড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে।
শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। এরপর বুধবার দুপুরে স্বজনরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মোসলেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এক পর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল
মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করা হয়। এ সময় কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসা ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সেখানে বক্তারা বলেন, যৌন নিপীড়নের যে কোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। তবে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শিক্ষককে মারধর কিংবা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে ‘শানে সাহাবা খতিব ফাউন্ডেশন’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা শিক্ষককে মারধরের নিন্দা জানান এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যারন শামিম মজুমদার বলেন, তদন্ত অভিযোগের প্রমাণ মিললে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষক মোসলেমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে গতকাল কর্তৃপক্ষ পৃথক অভিযোগ দিয়েছে। এতে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ জনকে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।