প্রকাশিত: November 1, 2026
প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এক দিনেই প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ১৮০ টাকা এবং প্রতি কেজি রুপার দাম প্রায় ৫ হাজার ৪৮৭ টাকা কমেছে। দুই ধাতু মিলিয়ে দাম কমেছে প্রায় ৯ হাজার ৬৬৭ টাকা। এতে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দর আবারও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কাছাকাছি পর্যায়ে নেমে আসার পথে।
রোববার (১ নভেম্বর) ভারতের বাজারে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার রুপিতে। আগের কার্যদিবস শুক্রবার এই দাম ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ রুপি। অর্থাৎ এক দিনেই দাম কমেছে ৩ হাজার ২০০ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪ হাজার ১৮০ টাকা। অল ইন্ডিয়া সরাফা অ্যাসোসিয়েশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ রুপি। ফলে বর্তমান দর ওই সময়ের দামের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে।
রুপার দামেও বড় পতন হয়েছে। আগের দিনের ১ লাখ ৯০ হাজার ২০০ রুপি থেকে কমে রোববার প্রতি কেজি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার রুপিতে। অর্থাৎ এক দিনেই দাম কমেছে ৪ হাজার ২০০ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪৮৭ টাকা।
মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই দরপতনের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বলতাও ভূমিকা রাখছে। ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৯০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান লেমননের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা গৌরব গার্গ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা স্বর্ণের চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে। কারণ, স্বর্ণ থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, শিল্প খাতে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রুপার ওপর বিক্রির চাপ আরও বেশি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম লাইভমিন্ট রোববার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর স্বর্ণ ও রুপার বাজারে বড় ধরনের দর সংশোধন চলছে।