প্রকাশিত: November 2, 2026
খুলনায় ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে লবণচরা এলাকায় এবং গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রায়েরমহল এলাকায় তাদের হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির ও লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভির দরগা এলাকার মাহাতাব শেখের ছেলে শহীদুল ইসলাম (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর লবণচরা থানাধীন দরগা কাশেমিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় শহীদুলকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, নিহত শহীদুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতটি ও একটি হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। সপ্তাহে দুই-তিন দিন ওই এলাকায় যেতেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। রাত ১১টার দিকে তাকে কুপিয়ে আহত করার খবর পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা করা হয়নি। হত্যার কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
অন্যদিকে, রোববার সন্ধ্যায় নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ইল ক্যান্টিনে’ দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন হুমায়ুন কবির। তিনি খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মৃত সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার দিকে ক্যান্টিনে বসে থাকার সময় একদল দুর্বৃত্ত রামদা ও চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি বুকে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর তাঁতি দলের আহ্বায়ক মো. আবু সাঈদ বলেন, হুমায়ুন কবির মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। হত্যার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসেছেন। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।
হুমায়ুন হত্যার বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেনি। আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেখে বিস্তারিত বলা যাবে।