প্রকাশিত: November 4, 2026
বুধবার (৪ নভেম্বর) রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অক্টোবর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মামলার তদন্তের মানোন্নয়ন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে রংপুর রেঞ্জে মোট ১ হাজার ৬৭৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি খুন, একটি ডাকাতি, তিনটি দস্যুতা, ১৩টি অপহরণ, ১৬১টি নারী নির্যাতন, ৬৪টি ধর্ষণ, চারটি গণধর্ষণ এবং ৯৯টি চুরির ঘটনা রয়েছে। এ সময়ে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৫৬৭টি মামলা হয়েছে। মাসটিতে ১ হাজার ৬৫২টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। অক্টোবরের শুরুতে রংপুর রেঞ্জে ৩৪ হাজার ৪০৬টি জিআর ও সিআর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনিষ্পন্ন ছিল। মাসে নতুন করে ৫ হাজার ৬৩৬টি পরোয়ানা যুক্ত হওয়ার বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ১৯৫টি। ফলে মাস শেষে অনিষ্পন্ন পরোয়ানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৪৭টিতে।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনার চিত্রও উদ্বেগজনক।
এ ছাড়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ২ হাজার ৮৯৭টি প্রসিকিউশন করা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ৯১ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৫ টাকা। হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে ১ হাজার ৭৫১টি জিডি ও মামলার বিপরীতে উদ্ধার হয়েছে ৩৪৩টি ফোন।
সভায় ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে অপরাধ দমন এবং পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বেসিক কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার কোর্স চালুর উদ্যোগ নিতেও নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় অক্টোবর মাসের সার্বিক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশকে রংপুর রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন।