প্রকাশিত: November 4, 2026
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরুর পর বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেয়া প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার করা রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামী বুধবার (১১ নভেম্বর) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) রিটটির শুনানি শেষে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।
রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় দুদকের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্য তার সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার পরিপন্থী। একই সঙ্গে দুদকের নিজস্ব তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালারও লঙ্ঘন।
রিটকারীর আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং একজন সহকারী পরিচালক পৃথক দুটি প্রেস ব্রিফিং করেন। এসব ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পাশাপাশি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। দুদকের কর্মকর্তাদের এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার আইনগত কর্তৃত্ব ছিল কি না, মূলত সেই প্রশ্নই রিটে উত্থাপন করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের পক্ষে করা আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তার আইনজীবীদের মতে, কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা প্রকাশ করা ব্যক্তির মর্যাদা ও সুনামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ এবং ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রেস ব্রিফিং কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুদককে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে।
শুধু অতীতের দুটি ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়েই নয়, ভবিষ্যতে অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ বন্ধের বিষয়েও আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন রিটকারী। এ ছাড়া ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে একই গুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে আসিফ মাহমুদ হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। তবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। পরবর্তী সময়ে চলতি সপ্তাহে আবেদনটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। আজ ওই বেঞ্চে শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামী ১১ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জহিরুল ইসলাম। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান। শুনানি শেষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম জানান, হাইকোর্ট রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে ওই সরকারে উপদেষ্টার দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ। প্রথমে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন আসিফ মাহমুদ। একই মাসের শেষ দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।