প্রকাশিত: November 6, 2026
কারা অধিদপ্তরের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে-লকআপ-পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি।
এ ছাড়া ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব জনবল দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত থাকবেন।
কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর।
দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া লকআপ-পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নিতে হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণকক্ষ স্থাপন করতে হবে। সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের দায়িত্ব দিতে হবে। পৃথক পর্যবেক্ষণকক্ষ না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।
নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি রোধে দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম। তিনি বলেন, কোনো প্রহরী বা পাহারাদার কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
নির্দেশিকায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ বারবার পাওয়া যায়, এমন পাহারাদার কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক স্বার্থ বিবেচনায় তাদের বদলি করা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।
বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এ সময় প্রহরীদের অবশ্যই নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
এ ছাড়া কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তাচৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিরূপ জনমত তৈরি করতে পারে।
নিরাপত্তার ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে এসব নির্দেশনা অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।