প্রকাশিত: September 21, 2025
গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সেখানে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। প্রতিদিনই ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় নিহত হচ্ছেন অসংখ্য ফিলিস্তিনি। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছেন নারী, শিশু ও অসহায় বৃদ্ধরা। ত্রাণবাহী গাড়ি সীমান্তে আটকে দেওয়া হচ্ছে, হাসপাতালগুলো পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে জীবনযাপন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সংঘাতের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর অধিকাংশ ইসরায়েলকে প্রকাশ্য সমর্থন দিলেও ব্যতিক্রম ছিল কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। এর মধ্যে স্পেন ও আয়ারল্যান্ডের পর এবার নতুন করে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের ১৪৬টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে বাহামা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, জামাইকা এবং বারবাডোজ এই স্বীকৃতি প্রদান করে।
জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ না পেলেও ২০১১ সালে ফিলিস্তিন ইউনেস্কোর পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন করে। একই বছরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনকে ‘সদস্যপদহীন পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও ফিলিস্তিনকে একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
১৯৮৮ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স থেকে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই বছরই আলজেরিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার অসংখ্য দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোও একে একে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে।
সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকো (২০২৩), বাহামা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, জামাইকা, বারবাডোজ (২০২৪) এবং সর্বশেষ যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া (২০২৫) ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বর্তমানে মোট ১৪৬টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা