ইন্টারনেট নেই তাই গাজাবাসীদের যুদ্ধ শেষ হওয়ার খবর পৌঁছে দিচ্ছেন সাংবাদিকরা

প্রকাশিত: October 10, 2025

  • শেয়ার করুন

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে ব্যাপক বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও মানবিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী আনাস আয়্যাদের প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে—সাংবাদিক সালেহ আল-জাফারাওয়ি ও আরও কয়েকজন প্রেস লেখা জ্যাকেট পরে উত্তর গাজার অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়কে হাঁটছেন। তারা মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন, “যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে”—যেন আতঙ্কে থাকা মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।

এদিকে, গত দুই বছরে গাজার বিপর্যস্ত জনগণের প্রতি বিশ্বব্যাপী সংহতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। নিউইয়র্কের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে মেক্সিকো সিটি, লন্ডন, রোম ও প্যারিস—বিশ্বের নানা শহরে মানুষ ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে সড়কে নেমেছে। প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ ‘গাজার জন্য ন্যায়বিচার’ দাবিতে স্লোগানে মুখর করেছে শহরগুলোকে।

তবে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তি সত্ত্বেও উত্তরের পরিস্থিতি রয়ে গেছে উত্তপ্ত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র অ্যাভিখাই আদরেই সতর্ক করে বলেছেন, “ওয়াদি গাজার উত্তরের অঞ্চল এখনও অত্যন্ত বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজা সিটিকে ঘিরে রেখেছে; সেখানে ফেরত যাওয়া জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”

তিনি গাজার বাসিন্দাদের উদ্দেশে আরও বলেন, “আপনারা উত্তরে ফিরে যাবেন না বা এমন কোনো এলাকায় যাবেন না যেখানে ইসরায়েলি সেনারা মোতায়েন রয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে এখনো অভিযান চলছে। শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা জারি হলে তবেই চলাচল করুন।”

ফলে একদিকে সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় গাজার অন্ধকারে আশার আলো জ্বলছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক সতর্কতা সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তার ছায়ায় ঢেকে দিচ্ছে।

  • শেয়ার করুন