প্রকাশিত: October 22, 2025
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ॥
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে এক তরুণীর লাশ ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হালুয়াঘাট থানা পুলিশের লাশবাহক মো. আবু সাঈদ (১৯) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আবু সাঈদ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার খন্দকপাড়া গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং তিনি হালুয়াঘাট থানা পুলিশের লাশবাহক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ১৯ অক্টোবর হালুয়াঘাট উপজেলার ঘোষবেড় এলাকায় ২০ বছর বয়সী এক তরুণী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়, যার দায়িত্বে ছিলেন আবু সাঈদ।
অভিযোগ অনুযায়ী, মর্গে লাশ পৌঁছানোর পর মৃত তরুণীর স্বজনরা উপস্থিত না থাকার সুযোগে আবু সাঈদ তরুণীর লাশ ধর্ষণ করেন। পরে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মৃতদেহের পরীক্ষায় তরুণীর যৌনাঙ্গে তাজা বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত করেন এবং বিষয়টি হালুয়াঘাট থানাকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং গোপন সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের পর সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার পাঠাগার মোড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত আবু সাঈদকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি লাশ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছেন হালুয়াঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল মিয়া।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে, আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
ঘটনায় এসআই মো. জামাল মিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত আবু সাঈদকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে পাঠানো হলে তিনি জবানবন্দিতে অপরাধ স্বীকার করেছেন।”
এদিকে, মর্গে লাশ ধর্ষণের এই জঘন্য ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ময়মনসিংহ ও হালুয়াঘাটজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, এবং সাধারণ মানুষ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।