প্রকাশিত: January 21, 2026
চট্টগ্রাম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই আসনে জোটের মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থী ও এনসিপি নেতা জোবাইরুল হাসান আরিফ।বুধবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের একটি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ। এনায়েত উল্লাহও প্রার্থী ছিলেন, তবে জোটের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ওই আসন থেকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জামায়াতের বোয়ালখালী উপজেলা শাখার নায়েবে আমির মো. আবু নাছের এখনও নির্বাচনী মাঠে রয়ে গেছেন। তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘জোটের সিদ্ধান্ত ছিল সবাই প্রার্থী দেবে, তবে যাকে চূড়ান্ত করা হবে বাকিরা তাকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়াবে। আমি জোটের স্বার্থে প্রত্যাহার করেছি। আমরা জামায়াত প্রার্থীকে অনুরোধ করব ১০ দলের ঐক্য রক্ষায় জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে।’
জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, ‘জোট ছাড়ার প্রশ্ন আসে না, তবে জাতীয় স্বার্থে আঘাত লাগলে যেকোনো কিছু হতে পারে। জামায়াত নেতারা আমাকে জানিয়েছেন ডা. আবু নাছের চট্টগ্রামে না থাকার কারণে নাকি প্রত্যাহার করতে পারেননি। আমি তাকে পাশে নিয়েই কাজ করতে চাই।’এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষেই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বর্তমানে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। জোবাইরুল হাসান আরিফ ছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- এরশাদ উল্লাহ (বিএনপি), মোহাম্মদ নুরুল আলম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) এবং মোহাম্মদ এমদাদুল হক (ইনসানিয়াত বিপ্লব)।