প্রকাশিত: October 7, 2026
রাজশাহীতে বাসায় ডেকে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া ২৬ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রাজশাহী মহানগরীর ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকার সুলতানা (৩৯) এবং পুঠিয়ার বানেশ্বর থান্দারপাড়া এলাকার আসলাম আলী (৫৫)। বর্তমানে তিনি নগরীর তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকায় বসবাস করেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন মানুর সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে মোবাইল ফোনে সুলতানার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুলতানা তাকে ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীর ভাড়া বাসায় দাওয়াত দেন।
বিকেল ৪টার দিকে মনোয়ার ওই বাসায় গেলে ভেতরে আগে থেকেই আরও দুই ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। তিনি বাসায় প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে তাকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন।
পরে মনোয়ারকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আনতে বাধ্য করা হয়। এরপর তার নগদ হিসাবে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিকাশ হিসাবে ১৩ হাজার ২০০ টাকা পাঠানো হয়। পরে ওই টাকা থেকে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা এজেন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। আরও টাকা দাবি করা হলে মনোয়ার অস্বীকৃতি জানান। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৫ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীতে সুলতানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় রাজপাড়া থানা পুলিশ। এ সময় সুলতানা ও আসলাম আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া ২৬ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সুলতানার দেখানো একটি শপিং ব্যাগ থেকে আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার আসলাম আলীর বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় পেনাল কোড আইনে একটি মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ডও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।