প্রকাশিত: September 26, 2026
প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেছে। দুজনের মধ্যে এখন আর আগের মতো ভালোবাসা নেই। তবু কথা হচ্ছে, খোঁজখবর নেওয়া চলছে, এমনকি বন্ধুত্বও রয়ে গেছে। কিন্তু কেন অনেকে বিচ্ছেদের পরও সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন না?
মনোবিষয়ক সাময়িকী সাইকোলজি টুডে এক প্রতিবেদনে এর চারটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাসহ কয়েকটি গবেষণার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, কেউ মানসিক স্বস্তির জন্য, কেউ প্রয়োজনে, আবার কেউ পুরোনো ভালোবাসার টানেই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখেন।
পুরোনো ভরসা ও মানসিক স্বস্তি
সম্পর্কে থাকার সময় দুজনের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়। মনের কথা বলা, বিপদে পাশে পাওয়া কিংবা মন খারাপ হলে কথা বলার অভ্যাস গড়ে ওঠে। বিচ্ছেদের পরও সেই অভ্যাস সহজে যায় না।অনেকে তাই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখেন। কারণ, তাঁর সঙ্গে কথা বললে স্বস্তি লাগে, নিজের কথা বলা যায় এবং একটা পরিচিত মানুষের সঙ্গ পাওয়া যায়। এ ধরনের বন্ধুত্ব ভালো হতে পারে, যদি দুজনই একে অপরকে সম্মান করেন এবং সম্পর্কের নতুন অবস্থাটা মেনে নেন।
সব সময় ভালোবাসা বা আবেগের জন্য সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকে না। কখনো কখনো প্রয়োজনেও যোগাযোগ রাখতে হয়। যেমন, দুজনের বন্ধুবান্ধব একই হতে পারে। একসঙ্গে কোনো সম্পদ, পোষা প্রাণী কিংবা সন্তানের দায়িত্ব থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ সাবেক সঙ্গীর কাছ থেকে আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধাও পেতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু প্রয়োজনের কারণে তৈরি হওয়া বন্ধুত্ব অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তবে এতে দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকতে পারে।
ঝামেলা এড়াতে বন্ধুত্ব
বিচ্ছেদের পর অনেকেই নতুন করে ঝগড়া বা মনোমালিন্যে জড়াতে চান না। তাই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলেন, খোঁজখবর রাখেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন। কেউ কেউ মনে করেন, সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে অন্যজন কষ্ট পেতে পারেন। আবার একই বন্ধুদের সঙ্গে চলাফেরা করলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এসব কারণেও তাঁরা বন্ধুত্ব বজায় রাখেন। তবে শুধু ঝামেলা এড়ানোর জন্য যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, তা বেশির ভাগ সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
এখনো ভালোবাসা রয়ে গেছে
বিচ্ছেদ হলেও সবার মন থেকে ভালোবাসা একসঙ্গে চলে যায় না। কেউ কেউ এখনো সাবেক সঙ্গীকে ফিরে পেতে চান। তাই বন্ধুত্বের নাম করে যোগাযোগ চালিয়ে যান। তাঁদের মনে আশা থাকে, হয়তো একদিন আবার সম্পর্ক ঠিক হবে। কেউ আবার সাবেক সঙ্গীকে অন্য কারও সঙ্গে দেখতে চান না। ফলে পুরোনো সম্পর্ক শেষ হলেও বন্ধুত্ব ছাড়তে পারেন না। তবে একজন যদি শুধু বন্ধুত্ব চান আর অন্যজন যদি আবার প্রেমে ফেরার আশা করেন, তাহলে এই সম্পর্ক থেকে নতুন করে কষ্ট তৈরি হতে পারে।
সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব কি খারাপ?
সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা মানেই যে পুরোনো প্রেম ফিরে আসবে, এমন নয়। কারও ক্ষেত্রে ভালোবাসার অনুভূতি কমে যাওয়ার পরও বন্ধুত্ব থাকতে পারে। আবার কারও বিচ্ছেদ হয় কোনো তিক্ততা ছাড়াই। তাই দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখাও সম্ভব।
সাইকোলজি টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের অন্তত একজন সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশের একাধিক সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিষমকামীদের তুলনায় এলজিবিটিকিউ ব্যক্তিদের মধ্যে বিচ্ছেদের পর বন্ধুত্ব বজায় রাখার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
তবে সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুজনের চাওয়া এক কি না। একজন যদি পুরোনো সম্পর্ক ভুলে সামনে এগোতে চান, আর অন্যজন যদি এখনো ফিরে আসার আশা করেন, তাহলে বন্ধুত্ব দুজনের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।